এবার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনের অগ্রগতি

0
67

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। তবে এ দৌড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা ও শক্তি ব্যবস্থাপনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন অনেক এগিয়ে গেছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফরচুন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন যেভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার ধারেকাছেও নেই। ২০২৪ সালে চীন বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্মাণের প্রায় ৬৫ শতাংশ স্থাপন করেছে, যেখানে সৌর প্যানেল ও বায়ু বিদ্যুতের বিপুল সম্প্রসারণ দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকে নিরবচ্ছিন্ন করেছে। এর ফলে দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেলেও কার্বন নিঃসরণ কমেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলন মাস্কের কোম্পানি এক্স এআই মেমফিসে ৩৫টি মোবাইল মিথেন গ্যাস জেনারেটর চালাচ্ছে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে, যা আশপাশের এলাকায় দূষণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেক বাজার চায়না-এর সম্পাদক রুই মা লিখেছেন, ‘চীনে যেখানে গিয়েছি, বিদ্যুৎকে সবাই নিশ্চিত পাওয়া যায় এমন এক মৌলিক বিষয় হিসেবেই ধরে নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এআই-এর প্রসার বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কে আটকে আছে’।

এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য শক্তিশালী বিদ্যুৎ অবকাঠামো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নতুন এআই উদ্ভাবনকে ধীর করে দিচ্ছে। এদিকে, চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক বিদ্যুৎগ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদেরকে শুধু শক্তিশালীই করেনি, বরং বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায়ও অগ্রগতি নিশ্চিত করছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে- জ্বালানি সংকটে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এ প্রতিযোগিতায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, চীনের ‘গ্রিন এনার্জি বিপ্লবই তাকে এআই দৌড়ে স্পষ্টত লাফিয়ে এগিয়ে দিয়েছে।

সূত্র : ফিউচারিজম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here