ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় নেতাদের বার্তা

0
57

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধাবসান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো নেতারা সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে নেতারা প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি, ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংস রোধ এবং ইউরোপের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা, ইউক্রেনের শিশুদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খোঁজা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত রোধে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়।

বৈঠকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে স্পষ্টভাবে বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে যেভাবে মানুষ হত্যা হচ্ছে ও অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প এই আলোচনায় এসে ‘অচলাবস্থা ভেঙেছেন’।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বৈঠকে বলেন, তারা এসেছেন ইউক্রেনের জন্য ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, তিনি কল্পনা করতে পারছেন না যে পরবর্তী বৈঠক যুদ্ধবিরতি ছাড়া হবে। এজন্য রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের পর ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, স্থায়ী শান্তির জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া অপরিহার্য। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, কয়েক বছর ধরে ইউরোপ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। তিনি একটি জোরালো ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চান এবং এ জন্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেন, এ বৈঠকটি অত্যন্ত প্রতীকী, কারণ এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে ইউক্রেনকে সহায়তার প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত আছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশটির রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যেমন ১৯৪৪ সালে সমাধান পাওয়া গিয়েছিল, তেমনই ২০২৫ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন রোধে সমাধান পাওয়া যাবে এবং ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here