ক্ষুধা, অপুষ্টি ও যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে ভেঙে পড়া গাজাবাসীর জন্য একদিনে প্রবেশ করল প্রায় ৫০০ ত্রাণবাহী ট্রাক। খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর চরম সংকটের মধ্যে এই ত্রাণের বহর সেখানে আটকে থাকা মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) গাজায় জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সরবরাহকৃত এসব ত্রাণ পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও সরকারের মধ্যকার সমন্বয়কারী কমিটি, কোগাট। সংস্থাটি জানিয়েছে, আরও কয়েক শ ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষায় রয়েছে এবং শিগগিরই এগুলোকেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। দীর্ঘ ২২ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজায় খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবল সংকট দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ। শুধু গোলাবর্ষণই নয়, ইসরায়েলের কড়া নিয়ন্ত্রণে খাদ্য ও ত্রাণ প্রবেশও সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ জর্ডানের সহায়তায় আকাশপথে ত্রাণ ফেললেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ প্রয়োজন। অথচ বিমান থেকে সরবরাহকৃত ত্রাণের পরিমাণ দৈনিক সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৯ ট্রাকের সমান।
মঙ্গলবার খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি গাজায় হাসপাতালের জন্য জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকও প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই জ্বালানি তেল হাসপাতালগুলো সচল রাখার জন্য বিশেষভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে এই উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও এখনও প্রয়োজনীয়তার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।
তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

