ভারতের বানিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই টানা ভারি বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আকাশপথ ও রেলপথে তৈরি হয়েছে চরম বিপর্যয়। লাখো মানুষের জীবন এখন থমকে আছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা শহরে। বুধবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বর্ষণে মুম্বাইয়ের বহু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) শহর ও আশপাশের জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। চার দিনের মধ্যে মুম্বাইয়ে ৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগস্ট মাসের গড় বর্ষণের তুলনায় অনেক বেশি। এই দুর্যোগে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে সড়ক, রেল ও আকাশপথে ভয়াবহ বিঘ্ন ঘটেছে। স্থানীয় ট্রেন সার্ভিস, যা মুম্বাইবাসীর জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত, ঘন্টার পর ঘন্টা দেরিতে চলছে। হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিমানবন্দরে ৫০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাজেট এয়ারলাইন ইন্ডিগো জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে আকাশপথে ট্রাফিক জট তৈরি হচ্ছে এবং আরও বিলম্ব হতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় মঙ্গলবার, যখন অতিরিক্ত ভিড় হওয়া একটি মনোরেল মাঝপথে থেমে যায়। প্রায় ৬০০ যাত্রী সেখানে আটকা পড়ে এবং শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। দমকল বাহিনী ও পুলিশ ক্রেন ব্যবহার করে যাত্রীদের উদ্ধার করে। অন্তত ২৩ জনকে শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, মুম্বাইয়ের নিচু এলাকা থেকে প্রায় ৩৫০ মানুষকে সরিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ভেসে বেড়াচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
বিরোধী দলগুলো সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলায় অদক্ষতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেছেন, “এটি প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই মানুষকে এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষ শহরের দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে, যেখানে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও হাজার হাজার মানুষ ভালো সুযোগের খোঁজে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে মুম্বাইয়ে সড়ক, মেট্রো ও সাগরপাড়ের সেতুর মতো নানা অবকাঠামো নির্মাণ হলেও, পুরনো নালা-ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তথ্যসূত্র : বিবিসি

