রাশিয়ার বাজারে পণ্য রফতানিতে ভারতকে স্বাগত: রুশ কূটনীতিক

0
57

মার্কিন বাজারে যদি ভারতীয় পণ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে রাশিয়ায় পণ্য রপ্তানিতে ভারতকে স্বাগত জানানো হবে। বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অফ মিশন রোমান বাবুশকিন এই মন্তব্য করেছেন। খবর এনডিটিভি’র

তিনি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর মার্কিন চাপকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একতরফা’ বলেও উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের এই জ্যেষ্ঠ রুশ কুটনীতিক বলেন, ‘…যদি ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে রাশিয়ার বাজার ভারতীয় রপ্তানিকে স্বাগত জানাচ্ছে।’

‘এটি ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি কিন্তু আমাদের সম্পর্কের ওপর আস্থা রয়েছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, বহিরাগত চাপ সত্ত্বেও ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে’-বলেন রোমান বাবুশকিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আসুন এই সত্য থেকে এগিয়ে যাই যে, রাশিয়া ভারতের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। এবং ভারতের চাহিদা বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশ্যই এটি পারস্পরিক সহনশীলতা এবং আমাদের অর্থনীতির পরিপূরকতার একটি নিখুঁত দৃষ্টান্ত। আমরা নিশ্চিত, আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের ‘রাশিয়াকে ইউক্রেন সংঘাতে জড়িত হতে নিরুৎসাহিত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারতের উপর শুল্ক আরোপ’ মন্তব্যের একদিন পর রাশিয়ার কর্মকর্তার এই মন্তব্য এল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক ২৭শে আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে কোন পদক্ষেপ না নিলে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের শীর্ষ দুই ক্রেতা।

অন্যদিকে, রুশ কুটনীতিক বাবুশকিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তিন দিনের রাশিয়া সফরে রয়েছেন। এই সফরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অফ মিশন বলেন, ‘যদি ভারত রাশিয়ার তেল ক্রয় বাতিল করলেও পশ্চিমাদের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে তা সহযোগিতার দিকে পরিচালিত করবে না। সাম্প্রতিক বছরের ঘটনাবলীতে তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমারা নব্য-ঔপনিবেশিক শক্তির মতো আচরণ করে, যারা তাদের নিজস্ব সুবিধার কথাই ভাবে। এই চাপ অযৌক্তিক ও একতরফা।’

রোমান বাবুশকিন বলেন, ‘যদি পশ্চিমারা আপনার সমালোচনা করে তার অর্থ হল আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করছেন। আমরা আশা করি না যে এটি ঘটবে (রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা)। আমরা ভারতের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। আমরা প্রকৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব উপভোগ করছি। যাই ঘটুক না কেন, চ্যালেঞ্জের সময়ও আমরা যেকোনো সমস্যা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে বাবুশকিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পুতিনের সাম্প্রতিক ফোন কল, যেখানে তিনি ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ব্যাখ্যা ও তথ্য ভাগাভাগি করেছেন; তার অর্থ ভারত রাশিয়ার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পারস্পরিক সন্তুষ্টির জন্য যেকোনো সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম। আমাদের অংশীদারিত্বের গভীরতা আমাদের একসঙ্গে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার এই সমস্যাটি দেখেছি, কিন্তু আমাদের বাণিজ্য বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আমাদের বাণিজ্য ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

‘ওয়াশিংটন যদি নয়াদিল্লিকে তার বন্ধু মনে করে তবে এরকম আচরণ করবে না। আমরা সবাই জানি, নিষেধাজ্ঞাগুলি বেআইনি প্রতিযোগিতার একটি হাতিয়ার। এটি দ্বিচারিতা। বিশ্বাসের অভাব, ব্ল্যাকমেইল ও চাপ, সেইসঙ্গে জাতীয় স্বার্থের প্রতি অসম্মান। বন্ধুরা এমন আচরণ করে না’-যোগ করেন বাবুশকিন।

রাশিয়া এবং ব্রিকসভূক্ত দেশগুলো (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) কখনোই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না এবং অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য জাতিসংঘের বাইরের নিষেধাজ্ঞা এবং গৌণ নিষেধাজ্ঞাগুলিকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের ক্রমাগত রাশিয়ার তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এবং পরবর্তীতে তা দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here