ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি অবশিষ্ট সকল বন্দীর মুক্তি এবং ইসরায়েলের জন্য “গ্রহণযোগ্য শর্তে” গাজা যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করতে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে গাজা ডিভিশনের সদরদপ্তর সফরকালে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের উদ্দেশে এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানান, তার মন্ত্রিসভা গাজা শহরের ওপর ব্যাপক সামরিক হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
এর আগে, সোমবার কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় প্রণীত ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল হামাস। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় আটক অর্ধেক বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। তবে নেতানিয়াহু বর্তমান প্রস্তাব গ্রহণ না করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল কেবল এমন এক চুক্তি মেনে নেবে যাতে একসঙ্গে সব বন্দী মুক্তি পায়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার স্থান নির্ধারিত হলে প্রতিনিধি দল নতুন করে আলোচনায় অংশ নেবে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমি অবিলম্বে সকল বন্দীর মুক্তির জন্য আলোচনার নির্দেশ দিয়েছি। একইসঙ্গে আমি আইডিএফকে গাজা শহর দখল করে হামাসকে পরাজিত করার পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “হামাসকে পরাজিত করা এবং সকল বন্দীর মুক্তি – এই দুটি বিষয় একসঙ্গে অগ্রসর হবে।”
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আংশিক বন্দী মুক্তির চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শেষের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার সামরিকীকরণ বন্ধ, সীমান্তে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ এবং হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য একটি প্রশাসন গঠন।
ইসরায়েলের ধারণা, বর্তমানে ৫০ জন বন্দীর মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত আছেন, দীর্ঘ ২২ মাসের যুদ্ধের পর।
এদিকে বৃহস্পতিবার গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বোমাবর্ষণের খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। সেনারা জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে।
আইডিএফ চিকিৎসা কর্মকর্তাদের ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে, গাজা শহরের প্রায় এক মিলিয়ন বাসিন্দাকে দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ তারা মানবে না। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, যারা সরে যেতে পারবে না কিংবা যেতে চাইবে না— তাদের সঙ্গেই তারা থেকে যাবে।
নেতানিয়াহু গত মাসে পরোক্ষ আলোচনার ভেঙে পড়ার পর পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিশোধে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই সংখ্যাকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে ব্যবহার করছে।

