ভিয়েতনামের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ আঘাত হেনেছে টাইফুন কাজিকি। ঝড়ের শক্তিশালী প্রভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। প্রবল বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় পুরো দেশজুড়ে চলছে সতর্কতা।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে ভিয়েতনামের উত্তর-মধ্য উপকূলে আঘাত হানে টাইফুন কাজিকি। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে ঝড়টি মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে দুর্বল হয়ে লাওসে প্রবেশ করে। তবে উত্তর ভিয়েতনামের অনেক অঞ্চলে এখনো ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টানা ছয় ঘণ্টায় কোথাও কোথাও ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৭ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানিতে তলিয়ে গেছে ২৮ হাজার ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি। অন্তত ১৮ হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুতের ৩৩১টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় একাধিক প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানী হ্যানয়ের রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে গেছে, ভারী বর্ষণে যান চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়টি মঙ্গলবার সকালে লাওসে দুর্বল আকারে প্রবেশ করলেও ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে এবং দুর্গত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত ভিয়েতনাম এখন দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

