যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

0
43

যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো নিষিদ্ধ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন পতাকা পোড়ানোর শাস্তি হিসেবে এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও করেছেন তিনি।

অথচ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে পতাকা পোড়ানোকে দীর্ঘদিন ধরেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

স্থানীয় সময় সোমবার স্বাক্ষরিত এই আদেশে ১৯৮৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করা হলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, পতাকা পোড়ানো “তাৎক্ষণিক অবৈধ কর্মকাণ্ড উসকে দিতে পারে।”

আদেশ স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প বলেন, “যদি কেউ পতাকা পোড়ায়, তাকে এক বছরের জন্য জেলে যেতে হবে। কোনো ছাড় নেই, কোনো আগাম মুক্তি নেই। জেল খাটতেই হবে। আর এটা তার রেকর্ডে থাকবে। দেখবেন, এর পর পতাকা পোড়ানো সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।”

তবে তার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এটি মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থি এবং ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতাকে সীমাহীনভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।

ফ্রি স্পিচ অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ফায়ার’ এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করছেন কলমের এক দাগেই তিনি প্রথম সংশোধনী বদলে দিতে পারবেন, কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। সরকার মতপ্রকাশের এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে শাস্তি দিতে পারে না— যদিও তা অনেক আমেরিকানের, এমনকি প্রেসিডেন্টেরও কাছে ‘অপমানজনক বা উসকানিমূলক’ মনে হয়।”

আল জাজিরা বলছে, আদেশে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে পতাকা পোড়ানোয় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রায় মামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়েছে — যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই — যে বিদেশি নাগরিকরা আমেরিকানদের ভয় দেখাতে ও হুমকি দিতে পতাকা পোড়াচ্ছে। এর সাথে তাদের ভিসা বাতিল, বহিষ্কারসহ নানা শাস্তির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

আদেশে পতাকা পোড়ানোকে “উসকানি” বা “লড়াই বাঁধানো শব্দ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “পতাকা পোড়ানো এমন দাঙ্গার জন্ম দেয়, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।”

কিন্তু তার এ দাবি আইনি বিশেষজ্ঞরা নাকচ করেছেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জি এস হান্স অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “আমি মনে করি না এটা বড় কোনো সমস্যা। বরং সমস্যাহীন একটি বিষয়ে সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here