ইসরায়েলি হামলায় গাজায় গর্ভবতী নারী-শিশুসহ নিহত ৫৯ ফিলিস্তিনি

0
49

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বোমাবর্ষণ, অবকাঠামো ধ্বংস আর খাদ্য অবরোধে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে মানবিক পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার একদিনেই গাজা জুড়ে অন্তত ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন এক গর্ভবতী নারী ও তার অনাগত শিশু।

সোমবারের এই হামলাগুলো মূলত গাজা সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। চলমান এই অভিযান শুরু হয়েছিল গত মাসে, যা এখনও তীব্র আকারে চলছে। ইসরায়েল বলছে, হামাস যোদ্ধাদের টার্গেট করতেই এই অভিযান, কিন্তু বাস্তবে তা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে আকাশপথে হামলা, অন্যদিকে মাসব্যাপী খাদ্য অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” বলে বর্ণনা করেছে।

গাজা সিটিতে সোমবারের হামলায় সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে শাতি শরণার্থী শিবিরের কাছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে প্রাণ হারান এক গর্ভবতী নারী ও তার অনাগত শিশু। একই হামলায় আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। এই তথ্য গাজার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। একই দিনে জায়তুন ও সাবরা এলাকায়ও ইসরায়েলি বাহিনী বোমা বর্ষণ চালায়, যেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হন। গত মাস থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইতোমধ্যেই এক হাজারের বেশি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দিনের শুরুতেই নাসের স্ট্রিটের ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়। আল জাজিরার সাংবাদিক মোয়াথ আল-খালুত জানান, হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হয়। তিনি বর্ণনা করেন, “মানুষ আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটছে, তারা জানে না কোথায় নিরাপদ আশ্রয় মিলবে, কারণ ইসরায়েলি বাহিনী শহরের প্রতিটি কোণায় হামলা চালাচ্ছে।”

এছাড়া দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-মাজরা স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওপরও হামলা হয়। এতে আনাস সাঈদ আবু মুগসিব নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর দিয়েছে আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতাল। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সোমবার পুরো গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

কেবল যুদ্ধ নয়, ইসরায়েলের অবরোধে খাদ্য সংকট এখন আরও ভয়াবহ। সোমবার ক্ষুধা ও অনাহারে মারা গেছে আরও তিন শিশু। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে অনাহারে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫০, যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু। গাজায় প্রবেশ করা সহায়তার ট্রাকের সংখ্যা এখন প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ।

তবু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগস্টে জাতিসংঘ সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা আইপিসি’র দুর্ভিক্ষ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে “পুরোপুরি মিথ্যা” বলে অস্বীকার করেছেন। বিপরীতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সোমবার এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে ইসরায়েলের সহায়তা আটকানোকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, একবিংশ শতাব্দীতে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ। জরুরি ত্রাণকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবিলম্বে কাজ করতে দিতে হবে এবং গাজার সীমান্তে জমে থাকা সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।”