যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই কারখানায় অভিবাসন অভিযান, কয়েকশ কর্মী আটক

0
47

যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাইয়ের একটি গাড়ি কারখানায় বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান চালিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ৪৭৫ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় ফেরার পর এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কর্মস্থলভিত্তিক অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত এক বছর ধরে হুন্দাই এই কারখানায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কাজ চালাচ্ছিল। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষাৎকার ও প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে কর্মরত অভিবাসীদের চিহ্নিত করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃতদের বেশিরভাগই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে কাজ করছিলেন। বর্তমানে তাদের জর্জিয়ার ফোকস্টনে অবস্থিত একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। হুন্দাই মোটর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা সরাসরি তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী নন। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও নাগরিকদের অধিকারের ক্ষতি করছে। কোরিয়া জানায়, তারা ঘটনাস্থলে কূটনীতিক পাঠাচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “তারা অবৈধ অভিবাসী এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট শুধু তার কাজ করছে।” দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি যোগ করেন, “আমরা সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে স্থিতিশীল ও বৈধ শ্রমবাজার গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” এছাড়া তিনি দাবি করেন, অনেক শ্রমিক বাইডেন সরকারের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।

এই অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি বড় এজেন্ডা—দেশীয় শিল্পোন্নয়ন ও অবৈধ অভিবাসন দমন—এর মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করেছে। জর্জিয়ার এই প্রকল্পকে গভর্নর ব্রায়ান কেম্প রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প বলে উল্লেখ করেছিলেন। এতে প্রায় ১,২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল। তবে অভিযানের পর হুন্দাইয়ের পার্টনার এলজি এনার্জি সল্যুশনস তাদের ব্যাটারি কারখানার নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার দাবি করেছেন, অভিবাসীরা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসার পরই দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছেন। এ অভিযানে শুধু কোরিয়ান নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও আটক হয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি