ফিলিস্তিনের গাজায় চলছে ইসরায়েলের বর্বরোচিত গণহত্যা, এ অবস্থায় দেশটির কট্টর-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের ভারত সফরে।
নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও ইসরায়েল। এই সফরের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও গভীর করল। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী স্মোটরিচ ও ভারতের করপোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই চুক্তিতে সই করেন।
উভয় দেশ জানিয়েছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীতারামন বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন ও উচ্চ প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির এখনই সময়।
স্মোটরিচ একে দুই দেশের ‘যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন।
তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘আজকের এই চুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির প্রতিফলন। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে, ইসরায়েলি রপ্তানি জোরদার করবে এবং ব্যবসায়ীদের প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা ও উপকরণ সরবরাহ করবে।’
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় একে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, এই চুক্তি ফিনটেক উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এদিকে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ভারত-ইরোয়েলের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ডলার এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। তবে এই বাণিজ্যের বড় অংশই প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে। ইরোয়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা বর্তমানে ভারত।
আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছর গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ চলাকালে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরায়েলকে রকেট ও বিস্ফোরকও সরবরাহ করেছিল।
অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলের ওপর হামলার পর ভারতই প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল যারা ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায় এবং ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে নিন্দা জানায়।
আর এবার সেই প্রেক্ষাপটেই ইসরায়েলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চুক্তি করল নয়াদিল্লি।

