ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জাকসু নির্বাচন বর্জন: অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ

0
33

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। ভোট গ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেল পৌনে ৪টায় মওলানা ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।

তানজিলা হোসাইন বৈশাখী অভিযোগ করেন, ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ভোটারদের আঙুলে দেওয়া কালি সহজেই মুছে যাচ্ছিল, এমনকি একটি ব্যালট পেপার মেঝেতে পাওয়া গেছে। এসব কারণে ওই হলে দুই ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এছাড়া, তাজউদ্দীন আহমদ হলে ভোটার তালিকায় ছবি না থাকায় ভোট বন্ধ রাখা হয়।

ছাত্রদল প্যানেলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। তানজিলা হোসাইন প্রশ্ন তুলে বলেন, “জামায়াত নেতার মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে ছাপানো ব্যালট পেপারের ১০-২০% কি শিবির-সমর্থিত প্যানেলকে দেওয়া হয়েছে? অতিরিক্ত ১০% ব্যালট ছাপানোর উদ্দেশ্য কী?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাল ব্যালট ব্যবহার করে তাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।

একটি হলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. শেখ সাদী হাসানকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
সব হলে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্টদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল অভিযোগ করে, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আঁতাতের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ভোটে শিক্ষার্থীদের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না বলে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যানেলটি। সংবাদ সম্মেলনে মো. শেখ সাদী হাসানসহ প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাকসু নির্বাচনে মোট ১১,৮৯৭ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বামপন্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থিত আটটি প্যানেল রয়েছে।