ফ্রান্সে ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনে তীব্র উত্তেজনা, আটক অন্তত ৬৭৫ জন

0
38

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ‘ব্লক এভরিথিং’ নামক গণআন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। গত বুধবার শুরু হওয়া এই আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে, বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশজুড়ে কমপক্ষে ৬৭৫ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো চলছে অভিযান।

এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্ব ও সরকারের নানা নীতির প্রতি নাগরিকদের গভীর অসন্তোষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তাদের উদ্দেশ্য—সারাদেশে স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা।

বিক্ষোভ দমনে সরকার দেশজুড়ে মোতায়েন করেছে প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ সদস্য।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএম টিভি জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে প্যারিস অঞ্চল থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে ২৮০ জন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৪৯ জনকে রাখা হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।

প্যারিসের পুলিশপ্রধান লরেন্ট নুনেজ বলেন, “আজ সকালেই আমরা ২৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।”

বাজেট ইস্যু ঘিরেই বিক্ষোভের সূত্রপাত

সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বেয়ারুর প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পরিকল্পনা। এই বাজেটের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ১০ সেপ্টেম্বর ‘ব্লক এভরিথিং’ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে রূপ নেয়।

একটি ছোট অনলাইন গ্রুপ ‘লেস এসেনটিয়েলস’ আন্দোলনের সূচনা করে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, “১০ সেপ্টেম্বর আমরা সবকিছু বন্ধ করে দেব। পালানোর জন্য নয়, বরং প্রতিবাদের জন্য।”

বামপন্থি রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবোউড (এলএফআই) আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। এ ছাড়া ফরাসি ট্রেড ইউনিয়নগুলোও বাজেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে

গত সোমবার জাতীয় পরিষদে আস্থা ভোটে সরকারের পতনের পর ফ্রান্সে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাকে নতুন সরকার গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেট ঘাটতির চাপ

বর্তমানে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫.৮ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বেশি। বাজেট ঘাটতির বিষয়টি বহুদিন ধরেই ফরাসি রাজনীতিতে বিরোধ ও উত্তেজনার বড় উৎস হয়ে আছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় গত ডিসেম্বরে মিশেল বার্নিয়ার সরকারের পতন ঘটে। চলমান আন্দোলন সেই ব্যর্থতারই ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।