রাজবাড়ীতে মাজারে হামলা ও হত্যা: মসজিদের ইমামসহ আরও ২ জন গ্রেপ্তার

0
35

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলা এবং হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন গোয়ালন্দ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আবু সাঈদ (৪৫) এবং গোয়ালন্দ পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানপাড়া গ্রামের মো. রাসেল শেখ। তাদের ফরিদপুর ও ঢাকার নাখালপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও মাজারে হামলার মামলায় ১৬ জন এবং রাসেল মোল্লা হত্যা মামলায় ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে অপু, বিল্লু, সোহান সরদার, অভি মন্ডল রঞ্জু, মাওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা আবু সাঈদ ও রাসেল শেখ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ আগস্ট নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার মৃত্যুর পর। তার ভক্তরা দরবারে কবর দিয়ে ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন, যা স্থানীয়দের একাংশের দাবি ছিল মক্কার কাবা শরীফের মতো। এ নিয়ে উত্তেজনার পর ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে শত শত মানুষ দরবারে হামলা চালায়। তারা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পদ্মার মোড়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় সংঘর্ষে রাসেল মোল্লা নিহত এবং সাংবাদিকসহ ২২ জন আহত হন।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে ৫ পুলিশ সদস্য ও ২ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন।

মামলার বিষয়ে, ৫ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ৮ সেপ্টেম্বর নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আমজাদ মোল্লা হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দরবার শরিফ এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে গোয়ালন্দে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে অনেক মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক গা-ঢাকা দিয়েছেন।