ব্রাজিলে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড

0
52

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করে ২৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রায় দেন। চারজন বিচারক দোষী রায় দিলেও একজন খালাসের পক্ষে ভোট দেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে বলসোনারোকে ২০২২ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

রায়ের পর বলসোনারোর আইনজীবীরা এটিকে “অতিরিক্ত কঠোর” বলে মন্তব্য করেন এবং আপিলের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আদালত তাকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত কোনো সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী বলসোনারো গৃহবন্দি আছেন। তবে তিনি শুনানির চূড়ান্ত ধাপে উপস্থিত ছিলেন না।

বলসোনারো অভিযোগ করেছেন, এই মামলার উদ্দেশ্য তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া। তিনি একে “ডাইনি খোঁজা” বলে অভিহিত করেন। তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রায়টিকে ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, “আজকের মতো হুমকি ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে ভয় দেখাতে পারবে না।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিলে সাফল্যের সম্ভাবনা খুব কম, কারণ অন্তত দু’জন বিচারক খালাসের পক্ষে না থাকলে রায় পুনর্বিবেচনা হয় না। বলসোনারোর বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলেন এবং সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী লুলা দা সিলভা, তার সহপ্রার্থী ও এক সুপ্রিম কোর্ট বিচারককে হত্যার পরিকল্পনার কথাও জানতেন।

একই মামলায় সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান, নিরাপত্তা মন্ত্রীসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ আরও সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

তবে পর্যাপ্ত সেনা সমর্থন না পাওয়ায় অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কিন্তু ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি বলসোনারোর সমর্থকরা সরকারি ভবনে হামলা চালায়। দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয় এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।