ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩

0
98

জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বালি দ্বীপসহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু স্থানীয় জনগণ নয়, সেখানে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সরকারি হিসেবে, এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর। পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে বালি দ্বীপে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং কয়েক জায়গায় ভূমিধসও হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন গ্রাম ও শহর পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি, সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ভেঙে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বালি দ্বীপে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এর আগে দ্বীপটিতে ১৪ জন এবং পার্শ্ববর্তী ফ্লোরেস দ্বীপে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। বর্তমানে আরও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি)-র প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী—খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পোশাক, ওষুধপত্র এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার মতে, এই দুর্যোগে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

এদিকে, উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ডেনপাসার শহর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সেনা ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা একযোগে কাজ করছে। পাহাড়ি এলাকায় কাদামাটিতে আটকে পড়া গ্রামগুলোতে পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ বিতরণে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে কয়েক শ’ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুল ও সরকারি ভবনে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্গত এলাকায় মোবাইল মেডিকেল টিম চালু করেছেন।

প্রশাসন আশঙ্কা করছে, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আরও ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য পাহাড়ি এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে বালির পর্যটন খাতও বড় ধাক্কা খেয়েছে। অনেক বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ বাতিল করছেন বা নিরাপদে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন। বালি দ্বীপে যাতায়াত আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিমানবন্দর ও নৌযান সেবাতেও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সরকার জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি