কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ ফরিদা পারভীনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

0
57

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিল্পীর মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং ভ্যান কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে পৌঁছায়। সেখানে জেলা প্রশাসন, লালন একাডেমির শিল্পী, গবেষক এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফরিদা পারভীনকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বাদ এশা জানাজা শেষে তাকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

শিল্পীর দাফন ও জানাজায় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষবারের মতো প্রিয় শিল্পীকে বিদায় জানাতে জড়ো হন। উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, কবি ও সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার, লালন গবেষক লালিম হকসহ অনেকে।

দাফন শেষে ফরহাদ মজহার বলেন, “ফরিদা পারভীনকে শুধু শিল্পী বলা তার প্রতি অবিচার হবে। তিনি ফকির লালন শাহকে সারা বাংলাদেশ, ভারতীয় উপমহাদেশ এমনকি বিশ্বে পরিচিত করেছেন। আগে লালনের গানকে আমরা পল্লীগীতি হিসেবে শুনতাম, কিন্তু ফরিদার কণ্ঠে প্রথমবার আমরা বুঝেছি এগুলো সাধকের গান। বাংলার ভাবজগতকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, “ফরিদার চলে যাওয়া পূরণ হওয়ার মতো ক্ষতি নয়। তিনি একটি ধারা তৈরি করেছেন, যার ভেতর দিয়ে আমরা বেড়ে উঠেছি। কুষ্টিয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নকে তিনি বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন।”

কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানের খাদেম নুরু স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ফরিদা পারভীন ছোটবেলায় কুষ্টিয়ায় বেড়ে উঠেছেন। “আমরা একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম। সমবয়সী হওয়ায় আমাদের বন্ধুত্ব ছিল। পরে তিনি কুষ্টিয়ার বাইরে চলে গেলে যোগাযোগ কমে যায়, তবে দেখা হলে আলাপ হতো,” বলেন নুরু।

প্রসঙ্গত, বরেণ্য লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন।