বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরে বোরিসভস্কি প্রশিক্ষণ মাঠে চলছে জাপাদ-২০২৫ নামে যৌথ সামরিক মহড়া। রাশিয়া ও বেলারুশের সেনারা অংশ নিচ্ছে এই মহড়ায়, যেখানে সুখোই-৩৪ বোমারু বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ, মর্টার ও কামানের গোলার শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ। সশস্ত্র হেলিকপ্টার ও নজরদারি ড্রোনও মহড়ায় যুক্ত হয়েছে।
এ মহড়া ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ২৩টি দেশের প্রতিনিধি আমন্ত্রিত হয়েছেন। বেলারুশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সহকারী মেজর জেনারেল ভ্যালেরি রেভেনকো বলেন, “এটি নজিরবিহীন স্বচ্ছতার উদাহরণ। আমরা কাউকে হুমকি দিচ্ছি না, বরং গঠনমূলক সংলাপ চাই।”
তবে ইউরোপের অনেক দেশ মহড়াকে উদ্বেগের চোখে দেখছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্ক একে “খুবই আক্রমণাত্মক” আখ্যা দিয়ে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মিনস্ক। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় এবং পোল্যান্ড ও রুমানিয়ার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের সাম্প্রতিক অভিযোগে পূর্ব ইউরোপে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিনস্ক মহড়ার মাধ্যমে একদিকে স্বচ্ছতার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে পশ্চিমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—ইউরোপের সীমান্তের কাছেই রয়েছে বিশাল অগ্নিশক্তি। বার্তাটি হতে পারে: মস্কোর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো ইউরোপের স্বার্থে নয়।
প্রসঙ্গত, প্রতি চার বছরে একবার এই ‘জাপাদ’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে মহড়ায় অংশ নিয়েছিল প্রায় দুই লাখ সেনা। এবারের মহড়ায় অংশগ্রহণ কিছুটা কম হলেও এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আগের মতোই তীব্র।

