জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ না মানলে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আযাদ বলেন, “বারবার ভুল পথে হাঁটলে জুলাই সনদ আবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আমরা কি সারাজীবন সংকটে ভুগব? সারাজীবন রক্ত দিতে থাকব?” তিনি জানান, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তারা ‘সংবিধান অর্ডার ২০২৫’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে আইনি চ্যালেঞ্জের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, “সংবিধানের আর্টিকেল ৭ জনগণের পরম অভিপ্রায়ের কথা বলে। সেই ভিত্তিতে যদি কনস্টিটিউশন অর্ডার হয়, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হবে। এরপর গণভোট হলে আরও দৃঢ় হবে। আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না।”
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “যদি কেউ জুলাই সনদ না মানে, তাকে কি রাজনীতি থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়?” এর জবাবে আযাদ বলেন, “জুলাই কোনো রাজনৈতিক মত নয়, এটা জনআকাঙ্ক্ষা। একাত্তর মানে না যারা, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কীভাবে? মুক্তিযুদ্ধ না মানলে বাংলাদেশকেই অস্বীকার করা হয়। তাই নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ বাহাত্তরের সংবিধান অনুযায়ী চলছে। আমরা আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই রাজনীতি করি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের অর্জন। পেছনের কথা টানার কোনো সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতকে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দলটির শীর্ষ পাঁচ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তবে জামায়াত সেই বিচারকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ বলে আসছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

