ইসরায়েলকে রুখতে ইসলামি জোট গঠনের আহ্বান ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

0
43

কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও কাতারের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করেন। আল-সুদানি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনে কোনো বাধা নেই। “আমাদের হাতে বহু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করা সম্ভব, আর এটি কাতারে সীমাবদ্ধ থাকবে না,” যোগ করেন তিনি।

সরকারি সূত্রের বরাতে শাফাক নিউজ জানিয়েছে, আল-সুদানি ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর দোহায় অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামি সম্মেলনে ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাআসহ অন্যান্য আরব নেতারা অংশ নেবেন।

ইসরায়েল দাবি করে, দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে হামাসের ঊর্ধ্বতন আলোচকসহ ছয়জন শহীদ হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে হুমাম আল-হাইয়া। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম জানায়, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারকে অবহিত করেছিল দখলদার বাহিনী।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কাতারে হামলার নিন্দা জানায় এবং কাতারের সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে “মারাত্মক লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন। আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত এটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” বলে উল্লেখ করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, মিশর, তুরস্ক ও লেবানন—সব দেশই এ হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এটিকে “ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেন। ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনও একে “অপরাধমূলক কাজ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা দোহায় চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ