গাজায় কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই

0
44

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে আরও ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে গাজা সিটির একাধিক ভবন, যার মধ্যে তিনটি আবাসিক টাওয়ারও রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ জনে। জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজায় আর কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজা সিটির চিকিৎসকদের বরাতে বলা হয়, রবিবার নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনই ওই শহরের বাসিন্দা। ইসরায়েলি বাহিনী এক দিনে ১৬টি ভবন ধ্বংস করেছে, যেগুলোর মধ্যে আবাসিক টাওয়ারও রয়েছে। এই অভিযান মূলত উত্তরাঞ্চল দখল এবং সেখানকার জনগণকে উচ্ছেদ করার কৌশল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে অপুষ্টিতে দু’জন মারা গেছেন। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২২ জনে।

গাজা সিটির রেমাল এলাকার দক্ষিণে অবস্থিত আল-কাওসার টাওয়ার ইসরায়েলি বিমান হামলায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। অব্যাহত বোমাবর্ষণে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিপর্যস্ত এক ফিলিস্তিনি মারওয়ান আল-সাফি বলেন,
“আমরা জানি না কোথায় যাব। এই পরিস্থিতির সমাধান দরকার… আমরা এখানে মরছি।”

গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর বলেছে, ইসরায়েলের এই “পদ্ধতিগত বোমাবর্ষণ” আসলে গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার কৌশল। তাদের অভিযোগ, স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আবাসিক ভবন, তাঁবু এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় পর্যন্ত ধ্বংস করা হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, গত চার দিনে তাদের ১০টি ভবন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিক ছিল, যেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “গাজায় কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। কেউ নিরাপদ নয়।”

অন্যদিকে ইউনিসেফ মুখপাত্র টেস ইঙ্গ্রাম আল জাজিরাকে বলেন, “গাজায় কোথাও নিরাপদ নয়, এমনকি এই কথিত মানবিক অঞ্চলও না। প্রতিদিন শরণার্থী শিবিরে মানুষের ভিড় বাড়ছে।” তিনি উদাহরণ দেন, গাজা সিটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া এক নারীকে রাস্তার ধারে সন্তান জন্ম দিতে হয়। এ ধরনের হাজারো পরিবার এখন টিকে থাকার জন্য ন্যূনতম চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।

ইসরায়েল দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসির অঞ্চলকে “নিরাপদ এলাকা” ঘোষণা করলেও সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। উত্তর দিক থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা বহু পরিবার এখানে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পানির সংকট, খাবারের অপ্রতুলতা, টয়লেট ও আশ্রয়ের অভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

বাস্তুচ্যুত আহমেদ আওয়াদ বলেন, “শনিবার মর্টার হামলার মধ্যে থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম পানি নেই, টয়লেট নেই, খোলা আকাশের নিচে পরিবারগুলো ঘুমাচ্ছে।”

অন্য এক ফিলিস্তিনি আবেদআল্লাহ আরাম জানান, তাদের পরিবার তীব্র পানির সংকটে ভুগছে। শিশুরা অপুষ্টিতে কষ্ট পাচ্ছে, শীত আসছে, অথচ নতুন তাঁবুর ব্যবস্থা নেই। আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“শুধু বোমা নয়, ক্ষুধাও আমাদের মেরে ফেলছে। দুই বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এ যেন শরীর থেকে প্রাণ টেনে নেওয়ার মতো।”