অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান নাভি পিল্লে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির তদন্তের ফলাফল ঘোষণা করেন।
পিল্লে জানান, “আমরা (ইসরাইলি) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তকে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও প্রদত্ত আদেশের ভিত্তিতে শনাক্ত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এরা রাষ্ট্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়। এ কারণেই কমিশন বলছে, ইসরায়েল রাষ্ট্রই গণহত্যা চালিয়েছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছাড়াও “পরিস্থিতিগত প্রমাণ” রয়েছে, যা তাদের গণহত্যার উদ্দেশ্যের পক্ষে ইঙ্গিত দেয়।
৭২ পাতার প্রতিবেদনে উপসংহার টানা হয়েছে যে— “গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গণহত্যার মনোভাব স্পষ্ট।”
এই তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্ব সম্পর্কে কমিশন জানায়, এটি এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রামাণ্য ও গুরুতর ফলাফল।
কমিশনের ভাষ্যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় অন্তত চারটি জাতিগত নিধন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং আরও আড়াই শ’র বেশি মানুষকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর প্রতিশোধ নিতে সেদিন থেকেই ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার ও নৃশংস হামলা শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তবে জেনেভায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এই প্রতিবেদনকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি একে “কলঙ্কজনক, ভুয়া এবং মানহানিকর” বলে উল্লেখ করেছেন।
📌 সূত্র: আল জাজিরা

