ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাস ঘিরে বিক্ষোভ-ভাংচুর, ইসিতে ডিসির চিঠি

0
75

ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিকে ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবালয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

সীমানা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, থানা, হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয়সহ অন্তত ২০টি সরকারি দপ্তর ও দুটি থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হামলায় হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান জানান, হামলায় থানার একটি অ্যাম্বুলেন্স, তিনটি গাড়ি ও সার্জেন্টদের মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে টহলের মতো কোনো যানবাহন নেই, থানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি।”

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, “ভাঙ্গার আসন বিভাজন নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আমরা আশা করছি সেদিন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মহাসড়ক অবরোধ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ডিসি কামরুল হাসান মোল্লা সোমবার ইসির সিনিয়র সচিবের কাছে এক চিঠিতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসনে রাখার আবেদন করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সীমানা ঘোষণার পর থেকেই ভাঙ্গার মানুষ আন্দোলন করছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেসবুক বার্তায় ভাঙ্গাবাসীর পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা,
২. চেয়ারম্যানসহ আটক ব্যক্তিদের মুক্তি,
৩. সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার,
৪. নতুন মামলা না দেওয়া,
৫. রাতের বেলায় প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ করা।

বর্তমানে সেনাবাহিনী ঢাকা–খুলনা ও ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে টহল দিচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক দেখা গেছে।