বিদেশে হামাস নেতাদের ওপর আরও হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

0
41

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত হামাস নেতাদের ওপর ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জেরুসালেমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যেখানেই তারা থাকুক না কেন, নিরাপদ নয়। প্রতিটি দেশের অধিকার আছে সীমারেখার বাইরেও নিজেদের রক্ষা করার।”

এই মন্তব্য আসে কাতারে হামাস নেতাদের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে। হামলায় ছয়জন নিহত হলেও হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষত থাকে। কাতার দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে এবং ২০১২ সাল থেকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো দোহায় অবস্থান করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারকে আশ্বস্ত করেছেন, এ ধরনের হামলা আর হবে না। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও অভিযান চালানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জানান, কাতার হামলাটি এককভাবে ইসরায়েলই পরিচালনা করেছে। অপরদিকে, রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রেখেছে। দুই নেতা বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

অন্যদিকে, আরব দেশগুলোর এক সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “ডবল স্ট্যান্ডার্ড” না মানার আহ্বান জানান।

গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিমাঞ্চলে ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে এবং দক্ষিণে স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, খাদ্যসংকট ও দারিদ্র্যের মধ্যেই হামলা বাড়লে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এদিকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অনেকে অর্থাভাবে নিরাপদ স্থানে যেতে পারছেন না।

নেতানিয়াহু-রুবিও বৈঠকে পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ ও গাজা দখলের সামরিক পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। সম্প্রতি ইসরায়েল ই-ওয়ান (E1) বসতি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যা পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে পারে। নেতানিয়াহু বলেন, “এই ভূমি আমাদের, কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।” ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরের চার-পঞ্চমাংশ দখলের প্রস্তাব দিয়েছেন।

বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে বসবাস করছে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ হিসেবে গণ্য। এ সময় রুবিও সিটি অব ডেভিড প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, প্রত্নতত্ত্বকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি