নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ হবে: প্রধান উপদেষ্টা

0
51

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কিছু মহল নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলেও সরকার নির্ধারিত সময়ে তা আয়োজন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময়সূচি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা রমজানের ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিন দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংগঠনের নির্বাচন হওয়ায় তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের উৎসাহ বেড়েছে।

তরুণ ভোটারদের রেকর্ডসংখ্যক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ১৫ বছরের মধ্যে এ প্রথমবার অনেক তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তার মতে, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা ও ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের দ্বার উন্মোচন করবে।

ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ইউরোপীয় প্রতিনিধি দল সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইইউর সমর্থন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় করে।

ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা আসন্ন নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৪ মাসের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এক ডাচ এমইপি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে যেখানে অগ্রগতি সঠিক পথে এগোচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা ইইউর অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত তহবিল সহায়তার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি শরণার্থী ক্যাম্পে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো পুনরায় চালুর জন্য সহায়তা চেয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বৈঠকে শ্রম সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।