ট্রাইব্যুনালে নাহিদের জবানবন্দি: নতুন সরকার গঠনে ড. ইউনূসকে প্রস্তাব

0
69

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গত বছর ৪ আগস্ট নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল এবং তাঁকে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্য রেকর্ড করে।

আন্দোলন দমন ও হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ

নাহিদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও হামলা হয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে নির্যাতন চালায়। আন্দোলনকারীদের গুম, গণগ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও করেন তিনি।

তার দাবি, শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতার দায় এড়াতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই হেলিকপ্টার ও লেথাল ওয়েপন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জেনেছেন।

৫ আগস্টের কর্মসূচি ও সরকার পতন

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রথমে ৬ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সরকার কারফিউ জারির প্রস্তুতি নেওয়ায় তা এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। সারাদেশ থেকে লাখো মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করলে শাহবাগ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মিছিল গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে খবর পান—শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেছেন।

গণমাধ্যম ও সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্য

জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নাহিদ অভিযোগ করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী গণমাধ্যম সংস্কার হয়নি। ডিজিএফআই এখনও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে এবং দলীয় ও করপোরেট প্রভাব বিদ্যমান। সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এক বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জেরা ও বিতর্ক

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরায় বলেন, শেখ হাসিনা কখনও আন্দোলনকারীদের “রাজাকারের বাচ্চা” বলেননি; বরং তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার আন্দোলনে বাধা দেয়নি এবং ছাত্রলীগের ভূমিকা দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে এসেছে।

এর পাল্টা জবাবে নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য কখনো ব্যক্তিগত হতে পারে না—এটা দল ও দলের প্রধানের অবস্থান হিসেবেই গণ্য হবে।