ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ আল-খুলাইফি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট বিচারক তোমোকো আকানের সাথে হেগে বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কাতারের এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, আল-খুলাইফির এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তিনি বলেন, “কাতারের ওপর ইসরায়েলের হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইসিসি প্রতিটি আইনি ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে।”
গত সপ্তাহে কাতারের ভূখণ্ডে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো প্রাণঘাতী হামলায় পাঁচজন নিহত হন, যার মধ্যে কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা ছিলেন। যদিও হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ইসরায়েলের আক্রমণকে “বেআইনি” ও “আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন।
আইসিসির পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে কাতার সরাসরি মামলা দায়ের করতে না পারলেও, আরব ও ইসলামিক ব্লকের জরুরি বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলকে বাধা দিতে সম্ভাব্য সব আইনি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল-খুলাইফি এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, তার এই সফর ছিল “কাতার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবৈধ ইসরায়েলি সশস্ত্র আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্য আইনি পথ অনুসন্ধানকারী দলের কাজের অংশ।”
উল্লেখ্য, গত বছর আইসিসি গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। একই সঙ্গে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্ট ও হামাস কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের গ্রেফতারেরও আহ্বান জানানো হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের অতর্কিত হামলায় ১,২১৯ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘের স্বীকৃত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
সূত্র : এএফপি

