যশোরের ঐতিহ্যবাহী ও দেশের সর্ববৃহৎ সিনেমা হল ‘মণিহার’ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকপক্ষ। অব্যাহত লোকসানের কারণে এ ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলটি আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মণিহার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। হলটির নকশা করেছিলেন কাজী মোহাম্মদ হানিফ। ১ হাজার ৪৩০ আসন বিশিষ্ট এ সিনেমা হল উদ্বোধন হয়েছিল সোহেল রানা-সুচরিতা অভিনীত ও দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘জনি’ সিনেমার মাধ্যমে।
একসময় মণিহারের সুখ্যাতি এতটাই ছিল যে, জাপান, কোরিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা সিনেমা দেখতে আসতেন। ঢালিউডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিল এই সিনেমা হল। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ভালো সিনেমার অভাবে চার দশকের ব্যবধানে দর্শক প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে টিকতে না পেরে মালিকপক্ষ লোকসানের বোঝা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মণিহারের ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ বলেন, “আগে সিঙ্গেল স্ক্রিন ছিল। সবাই বলত ভালো পরিবেশ দিলে দর্শক হলে আসবে। পরে মাল্টিপ্লেক্স করা হলো। কিন্তু এখন তো ভালো সিনেমাই নেই। তাহলে দর্শক হলে আসবে কেন? মালিকপক্ষ অনেক দিন ধরে হলটি ভাঙার পরিকল্পনা করছেন। আমরা অনুরোধ করে এত দিন টেনেছি। কিন্তু লোকসানের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, এখন ভাঙা ছাড়া উপায় নেই।”
হলটির মালিক জিয়াউল ইসলাম মিঠু বলেন, “এখন বাইরের দেশের একটি সিনেমা চালাচ্ছি, যেটা এর আগেও চারবার চালিয়েছি। সিনেপ্লেক্সে চালাচ্ছি সালমান শাহের ‘বিক্ষোভ’। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। আয়-ব্যয়ের তফাৎ এতটাই বেশি যে প্রতি মাসে বড় অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই পরিকল্পনা করছি হলটি বন্ধ করে ভেঙে সেখানে একটি আবাসিক হোটেল নির্মাণ করার।”
চার দশকের ঐতিহ্য বহন করা মণিহারের এ পতনের খবরে যশোরের সংস্কৃতিপ্রেমী মহলে হতাশা নেমে এসেছে।

