ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ানোর তোড়জোড়

0
38

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের অজুহাতে দেশের বাজারে আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে আগামীকাল রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়া-কমার প্রভাব বাংলাদেশে সবসময় উল্টোভাবে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার ছুঁয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৮-২০ শতাংশ। একই প্রবণতা রয়েছে পাম অয়েলেরও। এ কারণে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখিয়ে বারবার দাম বাড়াচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ে না। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা ও পাম তেল ১৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রস্তাবিত দাম বাড়লে সয়াবিন তেল প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছাবে।

ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হলে তা হবে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন। সীমিত পরিসরে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে তেল বিক্রি করলেও খোলা বাজারে একের পর এক দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সরকার পাম তেলের দাম ১৯ টাকা কমিয়ে লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে সয়াবিন তেলের দাম তখন অপরিবর্তিত থেকে ১৮৯ টাকায় ছিল।

এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টার তেল আমদানিতে এক শতাংশ উৎসে কর আরোপ করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই করও ভোজ্যতেলের দামে প্রভাব ফেলছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীদের দাম নির্ধারণ করতে হলে প্রক্রিয়াগতভাবে করতে হবে। তবে আমদানি খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় না পোষালে সংকট তৈরি হতে পারে। তবুও দাম বাড়লে ভোক্তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের মধ্যে ভোজ্যতেলের মূল্য বাড়লে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিকভাবেও সরকারের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।