ঘটনার পর ‘সেফ হাউজে’ গিয়ে লুকায় সন্ত্রাসীরা

0
42

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করার পর সন্ত্রাসীরা ঢাকার বাইরে আশপাশের এলাকায় গড়ে তোলা ‘সেফ হাউজে’ আশ্রয় নেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তারা ঢাকায় ফিরে এসে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়। গত এক বছরে এভাবেই রাজধানীকে অস্থির করে রেখেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো।

সম্প্রতি আদাবরে রিপন নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বেলচা মনিরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এই তথ্য। শনিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে আদাবরের ১০ নম্বর রোডে রিপন ওরফে নিপুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বেলচা মনির ও তার সহযোগীরা। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে একই দিন বিকেলে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্ত্রী আরজু বেগম আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেফতার ও উদ্ধার

হত্যার পাঁচ দিন পর শনিবার ভোরে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বেলচা মনির (২৬), রাকিব হাওলাদার ওরফে ছোট রাকিব (২২), গোলাম রব্বানি সাহস (২৩), মনির হোসেন ওরফে গুজা মনির (৩০) এবং আকাশ খাঁ (২২)—কে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি সামুরাই তলোয়ার, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই রিপনকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার সন্ত্রাসী এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তিনি আরও জানান, হত্যার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা নিয়মিতভাবে ঢাকার বাইরে তৈরি করা সেফ হাউজে আত্মগোপন করছে এবং সুযোগ পেলেই আবার রাজধানীতে ফিরে আসছে।