ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া

0
50

ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে প্রথম জি-৭ দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল কানাডা।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দেন, “কানাডা আজ থেকে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে।”

কানাডার ঘোষণার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, তারাও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তিনি বলেন, “কানাডার সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়া এই ঘোষণা দিচ্ছে। এটি কানাডা ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টার অংশ, যার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গড়ে উঠবে।”

এর কয়েক মিনিট পরই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক ভিডিও বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, “আজ শান্তি ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের আশা পুনরুজ্জীবিত করতে আমি স্পষ্টভাবে বলছি, যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভয়াবহতার মধ্যে আমরা শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করছি। এর মানে হচ্ছে, নিরাপদ একটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশাপাশি একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকা। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এখন এসে গেছে।”

ইসরায়েল এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি হামাসের জন্য পুরস্কার ছাড়া কিছুই নয়। তবে হামাস নেতারা বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনারই প্রত্যক্ষ ফল এই স্বীকৃতি।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি বলতে কী বোঝায়?

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হোক বা না হোক, এর অস্তিত্ব বাস্তবে আছে। এর কূটনৈতিক মিশন, বিদেশে প্রতিনিধি অফিস, এমনকি অলিম্পিকসহ নানা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলও আছে।

তবে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই। পশ্চিম তীরে আংশিক কর্তৃত্ব থাকলেও ইসরায়েলের দখলদারিত্বের কারণে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। গাজাও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হলেও রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা। যদিও মাঠপর্যায়ে বড় কোনো পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনাই বেশি, তবুও আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এ সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে এক ভাষণে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছিলেন, “দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ওপর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।”