অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ, খরচ ও উৎপাদনশীলতা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাংক সুদহার অপরিহার্য। খুব বেশি সুদহার অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে, আবার খুব কম সুদহার মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। তাই সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, শুধু সুদ কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে না। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও ব্যাংকখাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খেলাপি ঋণ এবং আস্থাহীনতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি অবকাঠামো—বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন—বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার জানান, সুশাসন ও জবাবদিহিতার কারণে তাদের ব্যাংক কখনো আগ্রাসী ঋণ দেয়নি। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে গ্রাহক নির্ধারণের নীতি অনুসরণ করায় তারা ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পেরেছে।
ল্যাবএইড গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম বলেন, সঠিক সুদের হার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, ভোগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনে। কৃষি, এসএমই, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আবাসন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া জরুরি। বর্তমানে সুদের হার ১৪–১৫ শতাংশ হওয়ায় অনেকে ঋণ নিয়ে সংকটে পড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দশক ধরে অর্থনীতিকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। বাস্তবসম্মত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। এজন্য অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে।

