গাজায় ত্রাণবাহী মানবিক নৌযান প্রবেশে ফের বাধা ইসরায়েলের

0
54

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া নৌযানের বহরকে আবারও প্রবেশে বাধা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। দীর্ঘদিনের অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা গাজায় সাহায্য পৌঁছানো এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষোভ বাড়লেও, ইসরায়েল বলছে এই উদ্যোগ মূলত হামাসকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজামুখী নতুন ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা উপত্যকায় সরাসরি প্রবেশের অনুমতি পাবে না। তাদের দাবি, নৌযানগুলো হামাস নিয়ন্ত্রিত এবং এর আড়ালে হামাসকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল প্রস্তাব করেছে, নৌযানগুলো যদি প্রকৃতপক্ষে মানবিক সহায়তা বহন করে থাকে, তবে সেগুলোকে আশকেলন বন্দরে নোঙর করতে হবে, সেখান থেকে সমন্বিতভাবে গাজায় সহায়তা পাঠানো হবে।

বিবিসি জানায়, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাদের এই উদ্যোগ পুরোপুরি মানবিক। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নৌযানগুলোতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী, ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী এবং নাবিকরা। উদ্দেশ্য একটাই—ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবৈধ অবরোধ ভেঙে গাজার জনগণের কাছে সরাসরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে গাজামুখী নৌযান সংখ্যা ৫১ বলে জানানো হয়েছে।

গত মাসেই জাতিসংঘ সমর্থিত একটি সংস্থা জানিয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান সরাসরি ইসরায়েলকেই দায়ী করেন এই সংকটের জন্য, অভিযোগ করে বলেন ইসরায়েল ‘পদ্ধতিগতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে’। তবে তেলআবিব এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে এটিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের জুনে গাজায় সহায়তা বহনকারী একটি নৌযান ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল। সেই নৌযানে থাকা ১২ জন কর্মীর মধ্যে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। তাদের আটক করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি