নিউইয়র্কে শান্তি সম্মেলনে সৌদি-ফ্রান্স যৌথ ঘোষণা

ফিলিস্তিনকে বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান সৌদির

0
48

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিউইয়র্কে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ সভাপতিত্বে শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বৈশ্বিক স্বীকৃতির আহ্বান জানায় এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের দাবি তোলে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি পদক্ষেপ শান্তির জন্য গুরুতর হুমকি। স্থায়ী সমাধান কেবল দ্বি-রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমেই সম্ভব।

সম্মেলনে সম্প্রতি সাধারণ পরিষদে গৃহীত “নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্র”-এর প্রতি সমর্থন জানানো হয়, যা ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৪২ ভোটে পাস হয়েছে। সৌদি আরব জানায়, তারা ফ্রান্সসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত গাজার যুদ্ধ থামাতে, ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়।

যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়—

  • নিউইয়র্ক সম্মেলন ফিলিস্তিন প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
  • ১৪২ ভোটে পাস হওয়া প্রস্তাব দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি দৃঢ় করেছে।
  • গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও সহিংসতা বন্ধের জোর আহ্বান।
  • দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।
  • ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে স্বাগত; অন্যদেরও এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান।
  • ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড সংযুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা “রেড লাইন” এবং এর গুরুতর পরিণতি হবে।
  • ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
  • জাতিসংঘ প্রস্তাব ও আরব শান্তি উদ্যোগের ভিত্তিতে পূর্ণ আঞ্চলিক সংহতির ওপর জোর।
  • আসিয়ান ও ওএসসিই-এর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
  • সিরিয়া-ইসরাইল ও লেবানন-ইসরাইল আলোচনায় নবায়ন প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন।
  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বীকৃতির জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

সমাপনী বক্তব্যে সৌদি আরব সব রাষ্ট্রকে এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।