নিউইয়র্কে সফরসঙ্গীদের লাঞ্ছনায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুঃখ প্রকাশ

0
50

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতাদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকার এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার শিকার হয়েছেন। এই হামলা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সহযোগী ও সমর্থকদের দ্বারা চালানো হয়েছে। সরকারের মতে, এটি হাসিনার আমলে বিকশিত সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক উদাহরণ।

অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে এই অশুভ শক্তি শেষ করার অঙ্গীকার করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের সফরকালে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে প্রথমে ভিভিআইপি গেট দিয়ে নিয়ে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থায় তোলা হয়।

তবে শেষ মুহূর্তের ভিসা জটিলতার কারণে তাদের বিকল্প পথে যেতে হয়। সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভিভিআইপি সুবিধা ও সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন। ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা অটল। রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি—দেশে বা দেশের বাইরে—কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বরং যথাযথ আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই হামলার জবাব দেওয়া হবে।