পরিবর্তনের পথে সিরিয়া: ৫ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন

0
46

সিরিয়ায় আগামী ৫ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, নতুন পার্লামেন্ট গঠন দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর গত বছরের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর রাজনৈতিক শাখার নেতা আহমেদ আল-শারাই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন।

তবে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, বর্তমান সরকারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই ভোট কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন পার্লামেন্টের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে থাকবে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের আইন প্রণয়ন এবং পররাষ্ট্রনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণ। নির্বাচনে ২১০টি আসনে সরাসরি ভোট হবে, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রেসিডেন্ট আল-শারাই সরাসরি সদস্য নিয়োগ দেবেন।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি প্রদেশে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে যেতে পারে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। সুয়েইদা, হাসাকা ও রাকা প্রদেশে স্থানীয় সংঘর্ষ ও নিয়ন্ত্রণ-সংকটের কারণে ভোট বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অঞ্চলের কিছু অংশ এখনো কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ বছরের মার্চে দেশটিতে একটি সাংবিধানিক ঘোষণা জারি হয়, যেখানে ইসলামি আইনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও সংখ্যালঘু অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।