ইরান তার সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন এবং যেকোনো হুমকির সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে। দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা কৌশল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কাজে লাগিয়ে শত্রুদের কার্যক্রমের উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম। এই হুঁশিয়ারি দেশটির প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে জানানো হয়।
ইরানের শীর্ষ জেনারেল মুসাভি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকির মোকাবেলায় প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমাদের বাহিনী তাদের ক্ষমতা এবং কৌশলগত উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে সময়োপযোগী ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া দিতে পারে, যা শত্রুদের তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত করবে।” মুসাভি ইরান-ইরাক যুদ্ধকে দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই অভিজ্ঞতা ইরানের জন্য আত্মনির্ভরতা, বিশ্বাস এবং জাতীয় ঐক্যের শিক্ষার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
মুসাভি আরও জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের জন্য “জাতীয় শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ” হিসেবে দেখা যায়। তিনি হাইব্রিড যুদ্ধ এবং ‘জ্ঞানীয় যুদ্ধ’ মোকাবেলায় দেশের প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়াও, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে ইরানের সামরিক বাহিনী প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে নিরাপত্তার সুযোগে রূপান্তর করতে সক্ষম।
শীর্ষ কমান্ডারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান তার প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশটি নিশ্চিত করতে চায় যে, যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, তেহরান টাইমস, মেহের নিউজ

