রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার’ বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার (পোষ্য কোটা) দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল থেকে বুদ্ধিজীবী চত্বরে অবস্থান নেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এর আগের দিন প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান না আসায় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থী দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যকে লাঞ্ছনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, “উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ আবার বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। শাটডাউন বহাল আছে। পরবর্তী কর্মসূচি সবার সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সকাল ১১টায় শাটডাউনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির। এর আগে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসন ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং রোববার সিন্ডিকেট সভায়ও তা বহাল রাখে।
এরপর থেকেই শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার ও পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, অফিসার্স সমিতি ও ট্রেড ইউনিয়ন পূর্ণ শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে।

