চালের দাম কমার ইঙ্গিত দিল পরিকল্পনা কমিশন

0
41

দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর অবশেষে স্বস্তির খবর দিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসে চালের দাম কমতে পারে। বুধবার প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক-সেপ্টেম্বর’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জিইডির মতে, সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা অস্থিরতার পর আগস্টে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই অঙ্কের ঘরে থাকা মূল্যস্ফীতি এখন নিয়ন্ত্রণে আসায় এটিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছে জিইডি।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও চালের ভূমিকা

চালের দাম খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। জিইডির হিসাবে, আগস্টের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান ছিল ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত তিন মাস ধরে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে স্থিতিশীল আছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, দেশে চালের সরবরাহ ভালো হলেও দাম কমছে না। তার মতে, “দারিদ্র্য ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ শাকসবজি ও আমিষ কম খাচ্ছে, ফলে মোটা চালের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।” তিনি ধারণা দেন, নতুন আমন চাল বাজারে না আসা পর্যন্ত চালের দাম তেমন একটা কমবে না। তবে মূল্যস্ফীতি আরও কমলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং তখন চালের ওপর চাপ কমে দাম হ্রাস পেতে পারে।

অর্থনীতির বহিঃ খাত শক্তিশালী, ভেতরে ধীরগতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বহিঃ খাতের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী। রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ কোটি ডলার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে দেশি অর্থনীতির ভেতরে কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে।

  • ২০২৫ সালের জুনে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে কম।

  • সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ।

  • ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়েছে, জুনে ছিল ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা এক বছর আগে ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

জিইডি মনে করছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর আর্থিক নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হলেও এর বড় মাশুল দিতে হচ্ছে বেসরকারি খাতকে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকরা বলছেন, বহিঃ খাতের স্থিতিশীলতা ইতিবাচক হলেও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি রয়ে গেছে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ত্বরান্বিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না আনলে মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।