নেপালে তরুণদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশ জারি

0
94

নেপালে আসন্ন নির্বাচনে হাজার হাজার ‘জেন-জি’ (Generation Z) প্রজন্মের তরুণদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল। এর ফলে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরও নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন তরুণরা।

এর আগে ২০১৭ সালের ভোটার নিবন্ধন আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর নতুন ভোটার নিবন্ধন নিষিদ্ধ ছিল। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিকে শপথ পড়ানোর রাতেই আগামী ৫ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়, এই আইন সংশোধন না হলে প্রথমবার ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছেছেন এমন বহু তরুণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জারি করা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনটির সেই ধারা বাতিল করে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন করা যাবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই জানান, প্রথমে ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নতুন নির্বাচনি সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ১২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের দিনই পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওম প্রকাশ আচার্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ভোট দেওয়ার যোগ্য কিন্তু বাদ পড়া নাগরিকদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন, প্রবাসী নেপালিদেরও ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি গবেষণা দল গঠিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই অধ্যাদেশকে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তরুণ প্রজন্মের দুর্নীতি ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলনই সাবেক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পথ খুলে দিয়েছিল। এখন তাদেরকেই ব্যালট বাক্সে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট