বিশ্বনেতাদের আহ্বান উপেক্ষা করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৮৫

0
49

গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় আরও ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের আল-আহলি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় ১২ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে সাত নারী ও দুই শিশু ছিলেন।

বুধবার ভোররাত থেকে ইসরায়েল হামলা আরও তীব্র করে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা সিটিতে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে ইসরায়েলি সেনারা এবং হাজারো মানুষকে দক্ষিণে পালাতে বাধ্য করছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের মতে, এসব পদক্ষেপ আসলে গাজায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও দখলকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের ভেতরে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজারো মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা জানান বিভিন্ন দেশের নেতারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “যারা শিশু হত্যার মাধ্যমে মানুষকে আতঙ্কিত করছে, তারা মানবতার যোগ্য নয়।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে জানান, জুলাইয়ে গৃহীত ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’কে ভিত্তি করে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীরব কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ওয়াশিংটন আশাবাদী যে কয়েক দিনের মধ্যে কোনো অগ্রগতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বিশ্বনেতাদের জানানো হয়েছে।

তবে এর আগেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় বাধা দেন। এ মাসের শুরুর দিকে দোহায় বৈঠকে বসা হামাস নেতাদের হত্যার নির্দেশ দেন তিনি। গত ১৮ মার্চ সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি থেকে একতরফাভাবে সরে এসে তিনি তীব্র বিমান হামলা ও পূর্ণমাত্রার সাহায্য অবরোধ আরোপ করেন, যাতে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে বহু মানুষ মারা যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

নিজ দেশে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ চলছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে দেশ ছাড়ার আগে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে শত শত মানুষ তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যেই তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, তিনি আবারও আন্তর্জাতিকভাবে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা