ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি ছেড়ে কোথাও যাবে না এবং নিজেদের শেকড় আঁকড়ে ধরে থাকবে। তিনি ইসরায়েলকে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ভিসা না পাওয়ায় ৮৯ বছর বয়সী আব্বাস নিউইয়র্কে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাই ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
আব্বাস বলেন, গত দুই বছরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও আহত করেছে, যাদের অধিকাংশই নিরস্ত্র নারী, শিশু ও প্রবীণ। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে ‘যুদ্ধ নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন মাহমুদ আব্বাস। একই সঙ্গে তিনি হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং জিম্মি করা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আব্বাস তার ভাষণে গাজার বর্তমান ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনার নিন্দা জানান। তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা, সব বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মতো কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আমাদের ক্ষত যতই গভীর হোক, তা আমাদের টিকে থাকার ইচ্ছা ভাঙতে পারবে না। স্বাধীনতার ভোর আসবেই। ফিলিস্তিনের পতাকা আমাদের আকাশে উড়বে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের পবিত্র ভূমি ত্যাগ করব না, আমাদের মানুষ জলপাই গাছের মতো শেকড় গেঁথে থাকবে।”
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫,৪১৯ জন নিহত এবং ১,৬৭,১৬০ জন আহত হয়েছেন। হাজার হাজার লাশ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

