কক্সবাজারের সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আমজাদ হোসেন (২৮) নামে এক জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে।
নিহত আমজাদ চৌফলদন্ডীর নতুন মহাল বাজার জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন বলে জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম নুরী নিশ্চিত করেছেন। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্র বলছে, নতুন মহাল এলাকায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইলিয়াস খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।
আমজাদের ভাই সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর পাশাপাশি স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা রাফি তাঁর ছোট বোনকে প্রায়ই ইভটিজিং করত। সেই জের ধরেই সোমবার রাতে কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী আমজাদকে পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
আমজাদের মৃত্যুর খবরে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যান কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা ভয়াবহ, আমজাদ হত্যাকাণ্ড তারই নজির। তিনি অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল-পরবর্তী পথসভায় হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের নেতারা জড়িত দাবি করে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল হক হুঁশিয়ারি দেন, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের সহযোদ্ধা সাদ্দামের ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। আমরা নিন্দা জানাচ্ছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, কুরআনের হাফেজ আমজাদ দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং দুই বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন।

