গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র তার আন্তরিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের “আন্তরিক ও দৃঢ় প্রচেষ্টাকে স্বাগত” জানিয়ে শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি ২০ দফা পরিকল্পনাটি হোয়াইট হাউস প্রকাশ করে। যদিও হামাস এই চুক্তি গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
- হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি।
- হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলের গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার।
- একটি ‘অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ মোতায়েন।
- একটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ গঠন, যার প্রধান থাকবেন ট্রাম্প নিজে এবং এতে যোগ দেবেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের এই “প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বের” প্রশংসা করেছেন। এরদোয়ান বলেন, গাজায় রক্তপাত বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি নিশ্চিত করেন, তুরস্ক এই প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে থাকবে, যাতে “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরদোয়ানের পাশাপাশি সৌদি আরব, জর্দান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে গাজা যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সোমবার রাতে সৌদি আরব, কাতার ও জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

