জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “চাঁদাবাজি করা হারাম, ভিক্ষা করা হালাল। যদি অভাবী হন, চাঁদাবাজি বাদ দিয়ে ভিক্ষা করেন, তাও ভালো। দুর্নীতি বন্ধ করেন। আপনার যদি অভাব হয়, তাহলে থালা নিয়ে রাস্তায় বসে যান।”
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসি ইউনিয়নের খাদুলি গ্রামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশ একটি সুন্দর ও সম্পদে ভরপুর দেশ। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশকে শুধু দুর্নীতিমুক্ত করা গেলেই আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তখন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে “ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরা লাগবে না”। তিনি প্রশ্ন করেন, “ভিক্ষা করে পোলাও খাওয়া ভালো নাকি কাজ করে ডাল-ভাত খাওয়া ভালো? চাঁদাবাজি করে ঢিলেঢালা চলা ভালো নাকি কাজ করে আলু ভর্তা খাওয়া ভালো?”
ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। ওই নেতা টকশোতে বলেছিলেন, ডাকসু নির্বাচনে তাদের দল ‘ফুল প্যানেলে বিজয়ী হবে’, কারণ ‘ছাত্রদল ছাড়া কাকে ভোট দেবে’। রফিকুল ইসলাম খান এটিকে “জমিদারি ভাব” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ছাত্রদলের থেকে শিবির ভোট পেয়েছে তিনগুণ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এ নেতা তাদের সরকার গঠনের অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ যদি জামায়াতকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়, তবে তারা রাজা হবেন না, বরং জনগণের সেবক হবেন এবং জনগণকে প্রজা বানাবেন না।
তাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে “বাংলাদেশকে ক্যাপসুল ফ্রি বাংলাদেশ বানানো”।
রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, জামায়াত যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে পায়, তাহলে বাংলাদেশে কোনো বেকার থাকবে না। “আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে কর্মে পরিণত করব, শক্তিতে পরিণত করব।”
ক্ষমতায় গেলে অমুসলিমদের কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অমুসলিমরা সবচেয়ে বেশি ভালো থাকবে। তিনি তাঁর সাম্প্রতিক পূজামণ্ডপ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশের যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষই এ দেশের নাগরিক। সুতরাং একজন মুসলমান যেমন নাগরিক অধিকার পাবে, তেমনি একজন অমুসলিম নাগরিক অধিকার পাবে।”
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মো. শাহজাহান আলী, উপজেলা সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক মো. আব্দুল বারীসহ স্থানীয় নেতারা। সভাপতিত্ব করেন খাদুলি ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লব।

