হামাসের জন্য আত্মসমর্পণের শামিল ট্রাম্পের প্রস্তাব

0
81

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ার বিশ্রা ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “হামাসের জন্য এটি আত্মসমর্পণ, অন্যভাবে বলার সুযোগ নেই।”

বিশ্রা মনে করেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটিকে হামাস “আত্মসমর্পণ করার জন্য একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি” হিসেবেই দেখবে। কারণ, তারা জানে যে আত্মসমর্পণ না করলে আমেরিকা তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ইসরায়েলকেই সমর্থন করবে।

তবে তিনি যোগ করেন, হামাস যদি মনে করে যে রক্তপাত বন্ধ হওয়া উচিত, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সামান্য সম্ভাবনাও থাকবে, তাহলে তারা প্রস্তাবটি মেনে নিতে পারে। তিনি বলেন, “হয়ত অন্তত তিন বছরের গণহত্যা এবং লাগাতার বোমা হামলার পর… এই রক্তপাত থামবে। অথবা অন্তত এখন একটা সম্ভাবনা তৈরি হলো, ভবিষ্যতে কোনো একসময়, একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার…”

বিশ্রা বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবের পুরো বিষয়টিই এই ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে গাজায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক আছে এবং এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে তারা নিরস্ত্রীকরণ করবে এবং যে অঞ্চল তারা একসময় শাসন করত, সেটিকে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখন পুরো ব্যাপারটা এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, “তখন এটাকে আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান শর্তগুলো হলো:

  • জিম্মি মুক্তি: হামাস সম্মতি জানালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সব জিম্মি মুক্তি পাবেন।
  • গাজার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর: হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।
  • অন্তর্বর্তী প্রশাসন: গাজায় আমেরিকান, ইউরোপ ও আরব দেশগুলো নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্বে থাকবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
  • সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, গাজা ও হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করা হবে এবং এ কাজে সহায়তা করবে আরব দেশগুলো। এ ছাড়া সুড়ঙ্গসহ হামাসের সব অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আরব দেশগুলো যদি হামাস ও গাজাকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইসরায়েল এ কাজ করবে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সমর্থন দেবে।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ৮ মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা