ইউরোপের সামরিকীকরণে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি পুতিনের

0
43

ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণের প্রবণতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ ক্রমাগত সামরিকীকরণের পথে এগোচ্ছে এবং এর জবাবে রাশিয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর’ পদক্ষেপ নেবে।

আল জাজিরার শুক্রবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সোচিতে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এক ফোরামে পুতিন ন্যাটোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ন্যাটো আক্রমণের নামে রাশিয়াকে নিয়ে যে প্রচারণা চালাচ্ছে, তা আসলে ‘অর্থহীন হিস্টেরিয়া’।

পুতিন বলেন, “তারা (ন্যাটো) নিজেরাই বিশ্বাস করে না যে রাশিয়া ন্যাটোতে হামলা চালাবে। যদি সত্যিই বিশ্বাস করে, তাহলে তারা অবিশ্বাস্যভাবে অযোগ্য… আর যদি না বিশ্বাস করে, তাহলে তারা কেবল অসৎ।”

ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাশিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুতই পাল্টা জবাব দেবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জার্মানিতে বলা হচ্ছে তাদের সেনাবাহিনী ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হবে। খুব ভালো। আমরা সেটা শুনেছি এবং দেখছি এর মানে আসলে কী।”

পুতিন হুঁশিয়ারি দেন, “রাশিয়া কখনো দুর্বলতা বা দ্বিধা দেখাবে না। যা ঘটছে, আমরা তা উপেক্ষা করতে পারি না।”

পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘হিস্টিরিয়া’ তৈরি করছে যাতে সামরিক ব্যয় বাড়ানো যায়। তিনি তাদের ‘শান্ত হতে’ বলে মন্তব্য করেন, “রাশিয়া কোনো হুমকি নয়।”

তাঁর দাবি, ইউরোপ ‘নিরন্তর উত্তেজনা বাড়ানোর’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এর কারণেই ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, “সব ন্যাটো দেশই এখন আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে এবং তারা আর তা লুকাচ্ছে না। গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও অস্ত্র পাঠানোর মাধ্যমে তারা বাস্তবে যুদ্ধেই অংশ নিচ্ছে।”

ইউক্রেন ও ট্রাম্প প্রসঙ্গে

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে পুতিন জানান, আগস্টে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান ও দুই দেশের সম্পর্ক ভালো করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্প এমন একজন মানুষ, যিনি কথা শুনতে পারেন।”
  • সমঝোতার শর্ত: তবে মস্কো ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি। তাদের অবস্থান স্পষ্ট—কিয়েভকে অবশ্যই ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার আশা ত্যাগ করতে হবে এবং কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হবে।
  • পারমাণবিক সতর্কতা: পুতিন ইউক্রেনকে সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন বিপজ্জনক খেলা খেলছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন পারমাণবিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে।