তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সেনাবাহিনীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করার জন্য দেশটির একটি আদালত এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিটির আইনজীবীর বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এই তথ্য জানা গেছে।
৫৬ বছর বয়সী দিনমজুর সাবের সুশানিকে গত বছর ফেসবুকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদকে কঠোর ভাষায় আক্রমণের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবী উসামা বুতাহলজা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, ফেসবুকের একটি পোস্টের জন্য আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আইনজীবী এই রায়কে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিচার মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট সাঈদ কার্যত সব ক্ষমতা দখলের পর থেকে তিউনিসিয়ায় বাকস্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ কড়াকড়ি হয়েছে। নির্বাচিত পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ডিক্রির মাধ্যমে শাসন শুরু করার পর থেকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষয় হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে।
যদিও দেশটির আদালত মাঝে মাঝে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো সাজা কার্যকর হয়নি।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেরের ভাই জামাল সুশানে রয়টার্সকে বলেন, “আমরা এ রায় বিশ্বাস করতে পারছি না। এমনিতেই দারিদ্র্যের কষাঘাতে আমাদের জীবন বিপর্যস্ত, এখন তার ওপর যোগ হলো দমন-পীড়ন ও অবিচার।”
রায়ের পরই দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রুপ শুরু হয়। অনেক মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের বিরোধীদের ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে এই রায় দেওয়া হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন কঠোর পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও দমিয়ে দেবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে।
বর্তমানে অধিকাংশ বিরোধী নেতা, যাঁদের প্রেসিডেন্ট সাঈদ সময়ে সময়ে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

