ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল-হামাস সম্মত

0
54

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস বুধবার (৮ অক্টোবর) সম্মত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এটি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে।

ইসরায়েলে হামাসের অনুপ্রবেশ এবং গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের দুই বছর পূর্তির পরদিন মিশরে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি কাঠামোর প্রথম ধাপে এই ঐকমত্য গঠিত হলো।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশালে বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ইসরায়েল ও হামাস আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে স্বাক্ষর করেছে। এতে খুব শিগগিরই সব বন্দি মুক্তি পাবে এবং সম্মত সীমারেখায় ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে—যা এক দৃঢ় ও স্থায়ী শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ।”

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য। তবে ট্রাম্পের ঘোষিত চুক্তিতে এখনও অনেক বিষয় অস্পষ্ট, যা এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।

হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানে তারা একমত হয়েছে, এবং এতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও বন্দি-বিনিময় অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলিকে অনুরোধ করেছে যেন ইসরায়েল পুরোপুরি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করে।

ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার আগে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দুজন জানান, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও পদ্ধতি নিয়েই মূল জটিলতা রয়ে গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকে চুক্তি অনুমোদনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “ঈশ্বরের সাহায্যে আমরা সব বন্দিকে ফিরিয়ে আনব।”

হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, জীবিত বন্দিদের মুক্তি ইসরায়েলি সরকার চুক্তি অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হবে। ইসরায়েলি এক মুখপাত্র জানান, বন্দি মুক্তি শনিবার থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, হামাসের দেওয়া বন্দিদের মুক্তির তালিকায় ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘুতি ও পপুলার ফ্রন্টের প্রধান আহমেদ সাদাতের নাম রয়েছে।

ট্রাম্প মিশর সফরে যেতে পারেন এবং এই অর্জনকে তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক মহান দিন বলে অভিহিত করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং গাজায় মানবিক সহায়তা ও জরুরি বাণিজ্যিক সরবরাহের নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইসরায়েলের সামরিক অভিযান কিছুটা শিথিল হলেও বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছে—যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম নিহতের সংখ্যা।