আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ট্রাইব্যুনাল গতকাল (৮ অক্টোবর) বিকালেই এই গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলো আইজিপি এবং সামরিক বাহিনীর ১২টি দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে ভিন্ন মতাদর্শের লোকজনকে গুম করে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) রেখে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা আইজিপি ছাড়াও সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর নিম্নলিখিত ১২টি দফতরে পাঠানো হয়েছে:
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন— শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র্যাব কর্মকর্তা কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান, মাহবুব আলম, আবদুল্লাহ আল মোমেন, সারোয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম, মশিউর রহমান জুয়েল ও সাইফুল ইসলাম সুমন।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব) মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসামিদের মধ্যে চারজন সেনা কর্মকর্তা এখনও কর্মরত রয়েছেন, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশোধিত আইন অনুযায়ী তারা কোনো পদে থাকতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বন্দিশালা থেকে মুক্তি পাওয়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই দুটি মামলা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগ আমলে নেন।